তাপমাত্রার তারতম্যে আলু চাষীরা দিশেহারা
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারী ২০২৪, ০৮:৩১ অপরাহ্ন | সারাদেশ
মোঃ লিহাজ উদ্দিন, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ
উত্তরের সীমান্তবর্তী হিমালয় কন্যা খ্যাত জেলা পঞ্চগড়ে ঘনকুয়াশার সঙ্গে জেঁকে বসেছে হাড় কাঁপানো শীত। টানা পাঁচ দিন মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের পর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা অল্প বাড়লেও কমেছে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। সঙ্গে উত্তরের হিমশীতল বাতাসে কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে।
মরিচ, বাদাম, চা, পাথর সমৃদ্ধ এ জেলায় বরাবরই শীত আগে আসে আর যায় সবশেষে। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থান করায় ঠান্ডা ও কুয়াশা একটু বেশি অনুভুত হয়। বেশ কয়েক দিন যাবত এখানকার তাপমাত্রার পারদ উঠানামা করছে। মঙ্গলবার পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন ১১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ জানান, সোমবার জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রী এবং দিনের তাপমাত্রা ২৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। এ রুপ আবহাওয়া আরো কয়েকদিন থাকতে পারে। তাপমাত্রার পারদের এই উঠানামার খেলায় চিন্তায় পড়েছেন জেলার আলু চাষিরা। আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও প্রশান্তিতে নেই তারা। তাদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় মাঠ জুড়ে বিস্তীর্ণ আলু ক্ষেত। এসব ক্ষেতে চাষিরা তাদের কাংখিত ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ করছেন।
জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলা সদরের আলু চাষি পুহাতু বলেন, যেভাবে কুয়াশা ঝড়ছে তাতে আলু ক্ষেতে রোগবালাই লাগার সম্ভাবনা আছে। আর রোগ লাগলে আলুর কাংখিত উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটবে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের প্রধান পাড়া গ্রামের মকবুল বলেন, আমি ১৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। আলুর ভালো ফলনের আশা করছি। কিন্তু যেভাবে তাপমাত্রা উঠানামা করছে তাতে আলু গাছে মোড়ক রোগ লাগার সম্ভাবনা আছে।
জেলার আটোয়ারী উপজেলার বার আউলিয়া গ্রামের আলু চাষি সুবাস চন্দ্র বলেন, আমি লোন নিয়ে ১বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। কিন্তু আবহাওয়া নিয়ে খুব দুঃশ্চিতায় আছি।
সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ গুলজার রহমান আনসারী বলেন, এখন পর্যন্ত কৃষকের আলু ক্ষেত খুব ভালো আছে। ফলনও আশানুরূপ হবে। তবে বৈরী আবহাওয়া ও তাপমাত্রা কমবেশির কারণে আলু ক্ষেতে ব্লাইট রোগ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে সেটা মোকাবিলা করার প্রস্তুতি আছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে জেলায় এবার আলু চাষের জমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৮শত ৫০হেক্ট। আবাদ হয়েছে ৯ হাজার ৮শত ৫৭ হেক্টর জমি। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২লক্ষ ৬৩ হাজার ৪৮৮ মেট্রিক টন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোঃ নইমুল হুদা সরকার বলেন, এবার জেলায় আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তাপমাত্রার তারতম্যে ও ঘন কুয়াশার কারনে আলু ক্ষেতের সমস্যা হতে পারে। একাধারে তিনদিনের বেশী গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশা বা বৃষ্টি হলে আলু ক্ষেতে মোড়ক রোগ হতে পারে। , প্রতিকুল পরিবেশ মোকাবিলা করার জন্য আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গণ সার্বক্ষণিক কৃষকদের সাথে যোগাযোগ রেখে পরামর্শ প্রদান করছেন। আশা করছি সমস্যা হবে না।
ম

